আজ ২৭শে জুন, ২০২১ ইং রবিবার | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

এখন সময়- সকাল ৮:০৭

আজ ২৭শে জুন, ২০২১ ইং রবিবার | ১৬ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরক

আয়াত
فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُون
‘অতএব তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না।’
(সূরা বাকারা, আয়াত ২২)

শিরক : شرك শিরক শব্দের অর্থ-
অংশীদারিত্ব, অংশীবাদ, মিলানো, সমকক্ষ করা, সমান করা, ভাগাভাগি করা ইত্যাদি। ইংরেজীতে polytheism (একাধিক উপাস্যে বিশ্বাস), Associate, Partner ।

পারিভাষিক অর্থে : পরিভাষায় শিরক হচ্ছে, আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট ও সীমাবদ্ধ কোন বিষয় আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রয়োগ করা, অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়া’লা যে সমস্ত কর্তৃত্ব, ক্ষমতা, ‘ইবাদাত, আনুগত্য এবং নাম ও গুণাবলীর মধ্য থেকে যা নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তাতে অন্য কাউকে অংশীদার করাই হচ্ছে শিরক। আল্লাহ্র নিরঙ্কুশ প্রভুত্বে কারো অংশীদারিত্বের ‘আকীদা পোষণ করা। শিরক হচ্ছে তাওহীদের সম্পূর্ণ বিপরীত। তাওহীদ হচ্ছে Monotheism আর শিরক হচ্ছে Polytheism । (www.iscabd.org)

শিরকের প্রকারভেদ :
ক) আশ-শিরকুল আকবার বা বড় শিরক
খ) আশ-শিরকুল আসগার বা ছোট শিরক

১)আশ-শিরকুল আকবার বা বড় শিরক বলতে বুঝায়, আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার বানানো, কাউকে তাঁর সমকক্ষ মনে করা। এর মাধ্যমে মুমিন ঈমান থেকে বের হয়ে চির জাহান্নামী হয়ে যায়। তাওবা ব্যাতিত তার মুক্তির আশা নেই।
২) আশ-শিরকুল আসগার বা ছোট শিরক
এটিকে আশ-শিরকুল খফী বা গোপন শিরকও বলা হয়। এ ধরনের শিরকের দ্বারা তাওহীদে ত্রুটি সৃষ্টি হয় এবং কখনও কখনও বড় শিরক পর্যন্ত পৌছে দেয়। এ ধরনের শিরক থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন :
فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُون
‘অতএব তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করবে না।’

শিরকের ভয়াবহতা :
শিরকের পরিণাম ভয়াবহ। এটি মানুষের চুড়ান্ত ধ্বংস ডেকে আনে। আল কোরআন ওহাদীস থেকে এর ভয়াবহতার স্বরূপ তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ্। শিরক্ সবচেয়ে বড় অপরাধ-বড় গুনাহ-
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা‘য়ালা বলেনঃ
“আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক চরম যুলম।” (www.iscalibrary.com)
(সূরা লুকমান, আয়াত ১৩)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘য়ালা বলেন :
“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক্ করবে না।” (সূরা নিসা ৩৬। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতা‘য়ালা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না। এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং কেহ আল্লাহর শরীক্ করলে সে এক মহাপাপ আরোপ করে।” (সুরা নিসা ৪৮)
“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাঁর সাথে শরীক্ করা ক্ষমা করেন না। এটি ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। এবং কেহ আল্লাহর শরীক্ করলে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়।” (সুরা নিসা ১১৬)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘য়ালা আরও বলেন,
“যারা আল্লাহর সাথে অপর ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে, সুতরাং শীঘ্রই ওরা (মুশরিকরা) এর পরিনতি জানতে পারবে।” (সূরা হিজর ৯৬)

শিরক সম্পর্কে হাদিসের বানী :
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি বলেন- “তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্তু থেকে বেঁচে থাকবে।” সাহাবাগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল সেগুলো কি?” রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলেন, ‘‘আল্লাহর সাথে শরীক করা।” (বুখারী ও মুসলিম)

মুয়ায রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন- আমি উফাইর নামক একটি গাধার পিঠে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পেছনে বসেছিলাম। নবীজি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি জান বান্দার নিকট আল্লাহর হক কি? আমি বললাম আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ “বান্দাহর নিকট আল্লাহর হক্ হল বান্দাহ তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর বান্দাহর নিকট আল্লাহর অধিকার হলো তাঁর সাথে কাউকে শরীক না করলে আল্লাহ তাকে শাস্তি প্রদান করবেন না। (বুখারী ২৬৪৬)

জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- এক ব্যক্তি নাবীজির নিকটে এসে জিজ্ঞেস করল, জান্নাত এবং জাহান্নাম ওয়াজিব কারী বস্তু দু‘টি কি কি? তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার না বানিয়ে মৃত্যুবরণ করল সে জান্নাতী। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক বানিয়ে মারা গেল সে জাহান্নামী। (মুসলিম ১৭৭)

আনাছ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে- ‘‘আল্লাহতা‘য়ালা বলেন, “হে আদম সন্তান! তোমরা যদি আমার সাথে অংশীস্থাপন না করে দুনিয়াভরা অপরাধ (গুনাহ) নিয়েও আমার সাথে স্বাক্ষাত কর, তবে আমি দুনিয়া ভরা ক্ষমা নিয়ে তোমাদের নিকট উপস্থিত হব। (তিরমিজী, মেশকাত, বা‘বুল ইস্তেগফার) (www.facebook.com/iscabd91)

শিরক সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা
তাওহীদ হচ্ছে ঈমান ও ইসলামের মূল ভিত্তি। তাওহীদ সকল নাবী-রাসুলের দাওয়াতের কেন্দ্রীয় বিষয়। আল্লাহর নিকট ইবাদত কবুলের শর্ত হচ্ছে তাওহীদ। বিপরীত দিকে শিরক হচ্ছে জঘন্যতম পাপ। শিরকের অপরাধীকে আল্লাহ ক্ষমা করেন না। শিরক যাবতীয় আমলকে নষ্ট করে দেয়, জাহান্নামের দিকে টেনে নেয়। তাই আমাদের তাওহীদের পাশাপাশি শিরক সম্পর্কেও ইলম্ অর্জন করতে হবে। শিরক্ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকলে আমরা আমাদের অজ্ঞাতেই আল্লাহ না করুন শিরক জড়িয়ে যেতে পারি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, “বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।” (সূরা, যূমার ৯) (www.twitter.com/iscabd91)

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সকল প্রকার শিরক থেকে হেফাজত করুন এবং অন্যকেও শিরক থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বেশি বেশি দাওয়াতি কাজ করার তাওফীক দান করুন।-আমীন ইয়া রব্বুল ‘আলামীন

লেখক : মেহেরুল হক আবীর, কর্মী, ইশা ছাত্র আন্দোলন, চট্টগ্রাম মহানগর

Leave a Comment

লগইন অথবা নিবন্ধন করুন

লগইন
নিবন্ধন